| শিরোনাম: |

দেশজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমেই নিচে নামছে। ভোরবেলা কুয়াশা, সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়া সব মিলিয়ে শীতের আগমনি বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শীতের প্রথম ধাক্কা লাগতেই নরসিংদীর বেলাব উপজেলা সহ আশপাশের বাজারগুলোতে লেপতোষকের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান ও কারিগরদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। শীতের মৌসুম ঘনিয়ে এলে মৌসুমি কারিগরদের কাজ জমে ওঠে।
সারা বছর অন্য পেশায় যুক্ত থাকলেও শীতের শুরুতেই তুলা ঝাড়াই লেপ প্রস্তুত, তোশক বানানো এসব কাজে ছুটে আসেন অনেকেই। এ সময়টাই তাদের রোজগারের প্রধান মৌসুম। ডুমরাকান্দা এলাকার লেপ–তোশক কারিগর সেলিম খলিফা জানান, শীতের শুরুতেই প্রচুর কাজ আসছে। এই কয়দিনে এত অর্ডার পড়েছে যে সময়মতো ডেলিভারি দিতে হিমশিম খাচ্ছি। লেপ রিপেয়ার, নতুন লেপ বানানো, তোশক ভরাট সব কাজই এখন চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করছি। তবে পরিশ্রম বেশি হলেও আয় ভালো হওয়ায় আমরা খুশি।
তিনি আরও বলেন, তুলা, কাপড়সহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ভালো মানের লেপ বানাতে চাইলে ক্রেতারা অতিরিক্ত খরচ দিতেও রাজি।
একইভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগর আজহার মিয়া। তিনি বলেন, এই বছর মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেশি। ঠান্ডা এখনো পুরোপুরি নামেনি, কিন্তু সবাই আগেভাগেই লেপ–তোশক ঠিক করাতে আসছে। বিশেষ করে পরিবারের বাচ্চাদের জন্য নতুন লেপ বানাতে বেশি ভিড় হচ্ছে। সামনে ঠান্ডা বাড়লে কাজ সামাল দেওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি লেপ বানাতে এখন গড়ে ২৩ ঘণ্টা সময় লাগে। কাজের চাপ এত বেশি যে কয়েকজন সহকারী রেখেও সব অর্ডার ঠিকভাবে শেষ করা যাচ্ছে না।
শুধু কারিগররাই নন, বাজারের ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেলাব বাজারের লেপ ও কম্বল ব্যবসায়ী তাহের মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর শীত আগেভাগে টের পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে ক্রেতারাও আগে থেকেই লেপকম্বল কিনে নিচ্ছেন। দোকানে এখন পুরোদমে ভিড় চলছে। বর্তমানে রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, তোশক ৮০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জাজিম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ চার হাজার টাকা এবং বালিশ ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি স্পষ্ট। রাজারবাগ গ্রামের ক্রেতা সাইফুল বলেন, শীত পড়ে গেলে দোকানে ভিড় এমন হয় যে ভালো জিনিস মিলতেই চায় না। সে কারণে এবার আগেভাগেই লেপ বানাতে আসলাম। পুরোনো লেপটাও মেরামত করে নিচ্ছি। ঠান্ডায় পরিবারের সবাইকে গরম রাখতে হলে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
শীত এগোতে থাকলে লেপতোষকের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কাঁচামালের সংকটও দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা কারিগরদের। তবে চাহিদা বাড়ার কারণে এই মৌসুমে আয় নিয়ে আশাবাদী তারা।
শীতের প্রকোপ বাড়লে লেপ-তোশক ব্যবসায় আনবে আরও গতিÑএমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। প্রতি বছর শীতের শুরুতে এভাবে কারিগর, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ব্যস্ততা জমে ওঠে। আর সেই ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পায় মৌসুমি এই লেপতোষকের ব্যাবসা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ