প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৩:৫৪ পিএম

গত মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে কর্মকর্তাদের মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন কর্মকর্তা। পরীক্ষাটি নেওয়া হয় পূর্বঘোষিত সিলেবাস অনুযায়ী, মূলত যারা পূর্বে পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদের দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন, যার ফলে কর্মকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে।
হাসিনা সরকারের আমলে ব্যাংকটিতে ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন চেয়ারম্যান এস আলমের বিরুদ্ধে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেয় এবং ব্যাংকে শুদ্ধি অভিযান চালায়। এ সময় অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসেক মো. আলীকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন পর্ষদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেয় যে, এস আলমের সময় পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই সময়ে পরীক্ষার বিরোধিতা করে চট্টগ্রামের কিছু কর্মকর্তা কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ১৫ জুলাই এই পরীক্ষা নেয়া হয়।
গলাচিপা শাখার কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ায় চট্টগ্রামের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছিল। পরীক্ষাকে ঘিরে গুজব রটে যে ছাঁটাই হবে। তবে পরীক্ষার পর সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’
নড়িয়া শাখায় কর্মরত পটিয়ার কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রথমে মনে করেছিলাম আমাদের চাকরি চলে যাবে, কিন্তু পরবর্তীতে বুঝি এটা আসলে দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এখন চাপমুক্তভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারছি।’
একজন পরীক্ষার্থী বলেন, ‘চট্টগ্রামের কিছু কর্মকর্তা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। এখন বুঝছি, পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।’
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ সরোয়ার মোস্তফা আবুল উলায়ী বলেন, ‘কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতেই এই মেধা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এটি কোনো ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়। অংশগ্রহণকারী সবাই খুব আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছেন। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদেরকে আবারো পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম