প্রকাশ: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫, ৯:১১ AM আপডেট: ০২.০৭.২০২৫ ৬:৫৮ PM

জাফর সাদিক
পল্লবী মেট্রোস্টেশনের এক্সেলেটরের দরজায় অন্তত ৫ জন ভিক্ষুক বসে থাকেন। তাদের মধ্যে দুইজন অন্ধ পুরুষ, একজন পঙ্গু যুবক আর দু'জন বয়স্কা নারী। এদের পাশ কাটিয়ে সিঁড়িতে ওঠা বেশ মুশকিল। একদম ঘিরে নিয়ে পায়ের কাছে বসে থাকে, কখনো তো হাত বাড়িয়ে বাধাও সৃষ্টি করে! আমি মাঝে মাঝে রোস্টার করে তাদের মধ্যে দু'একজনকে সাহায্য করি। তবে সবসময় করা হয় না।
এদিকে স্টেশনের নিচেই একটা লেবু চায়ের দোকান আছে। ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই সেখানে এক কাপ চা পান করে তারপর মেট্রো ধরি। আজও যথারীতি চায়ের অর্ডার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ দেখি নতুন একজন অশীতিপর বৃদ্ধা ভিক্ষুক কুঁজো হয়ে আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন তো দাঁড়িয়েই আছেন! আমি পেছনে তাকানোমাত্রই তিনি সাহায্য প্রার্থনার হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমার হঠাৎ বিরক্ত লাগলো। মনে হলো, তিনি আমার ইমোশনে হিট করে টাকা আদায় করেই ছাড়বেন! এমন দেখলে আমার সাহায্য করার ইচ্ছা মরে যায়। আজও বিরক্ত হয়ে উঠেছিলাম। ভাবছিলাম ওনাকে কিছু না দিয়েই চলে আসবো।
কিন্তু হঠাৎ কুরআনের একটা আয়াত মনে পড়ে গেলো! কোন সূরা জানি না, তবে আয়াতটা এমন- 'ওয়া ফি আমওয়ালিকুম হাক্ক্বুন লিস্ সাঈয়িলীন', অর্থাৎ 'তোমাদের সম্পদে সাহায্য প্রার্থনাকারীদেরও অধিকার আছে!' এই আয়াত মনে পড়ার সাথে সাথে কয়েকবার আওড়ালাম, আর ওই বৃদ্ধার পাশাপাশি এক্সেলেটরের নিচের সব ভিক্ষুকের হাতেই যৎসামান্য সাহায্য পৌঁছে দিলাম।
আজ মনে হচ্ছে, কুরআনের যে বাণী- তা যদি আমরা সত্যিই উপলব্ধি করতাম, তাহলে এইদেশে যে কারো জন্য দরিদ্র থাকা সত্যিকার অর্থেই কঠিন হতো। কারণ, মুসলিম হলে তো আমাদের জন্য কুরআনের বাণী মানা অত্যাবশ্যক! আর সেই কুরআনের ৬৬৬৬ আয়াতের মধ্যে শুধু যদি একটামাত্র আয়াত বা আয়াতংশ মেনে আমরা আমাদের সম্পদে থাকা সাহায্য প্রার্থনাকারীদের হক্ক্ব বা অধিকার বুঝিয়ে দিতাম, তাহলে কেমন হতো আমাদের সমাজ?
মুখে-মুখে বা তর্জন-গর্জনে ইসলাম না খুঁজে, শুধু ইসলামের অধিকারবিষয়ক নির্দেশনাগুলোই যদি আমরা মানতাম, তাহলে আমাদের যেমন লাভ হতো, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রেরও ইতিবাচক পরিবর্তন হতো নিশ্চয়ই!
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক (লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর