
সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শহীদদের জানাজায় তেহরানে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার শোকাহত মানুষ।
শনিবার (২৮ জুন) রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক ইঙ্গেলাব স্কয়ার ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় শোকের নগরীতে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকরাও।
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন বহনের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক স্বজন ও উপস্থিত জনতা। কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল- “আল্লাহু আকবর”, “শহীদরা অমর”, “ইসরায়েল নিপাত যাক”।
জানাজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকেই বলছেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ইরানিদের মধ্যে আরও প্রতিরোধ শক্তি ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবে।
শুধু প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতেই নয়, তেহরানের জনগণ এসেছিলেন ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ প্রতিরোধের বার্তা দিতে।
ইরানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না, হামলার জন্য দায়ীদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালায়। টানা ১২ দিনব্যাপী এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ বাস্তবায়ন করে, যার আওতায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এই পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠে।
সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
২৪ জুন এক যুদ্ধবির্তির মাধ্যমে সংঘাতের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: মেহের নিউজ
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম