প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৪:১৮ পিএম আপডেট: ২৮.০৬.২০২৫ ৪:২৬ PM

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ জুন) আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীর আলি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, খাদি বাজারে সেনাবাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে এই সমন্বিত আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। লক্ষ্য ছিল ২২ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের গাড়ি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। সেনা সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণঘাতী হামলা হয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রদেশের বাইরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠী হাফিজ গুলবাহাদার গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনো পর্যন্ত হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
খাইবার, খুররাম ও ওয়াজিরিস্তান অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা বেড়েছে।
পাকিস্তান সরকার বারবার দাবি করেছে, এসব হামলার পেছনে রয়েছে আফগানিস্তানে আশ্রয় নেওয়া তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। যদিও কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা।
জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করেছে। তবে শনিবারের হামলাটি চলমান সন্ত্রাসবাদ দমনে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম