প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ৩:৪০ পিএম আপডেট: ২৮.০৬.২০২৫ ৪:০৪ PM

কিশোরগঞ্জের ইটনার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের সেই মনু মিয়া (৬৭) আর নেই। তিনি জীবনের প্রায় ৫০ বছর ব্যয় করেছেন মানুষের ‘শেষ ঠিকানা’ তৈরিতে। শনিবার( ২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আরও পড়ুন
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিন।
গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত, পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে। বিনা পারিশ্রমিকে কবর খোঁড়ার এই মহৎ কাজটি করে গেছেন প্রায় ৪৯ বছর, এবং এ সময়ের মধ্যে তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়েছেন তিনি। জীবনের বিনিময়ে কোনো অর্থ বা প্রতিদান চাননি কখনও।
মনু মিয়ার মানবিক কর্মকাণ্ড শুধু নিজ গ্রামে নয়, আশপাশের ইউনিয়ন এবং পুরো উপজেলাজুড়ে তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন সকলে।
একসময় কবর খোঁড়ার কাজে সময়মতো পৌঁছাতে নিজের দোকান বিক্রি করে একটি ঘোড়া কিনেছিলেন তিনি। সেই প্রিয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে নিজের কাজ সম্পন্ন করতেন নিঃশব্দে।
ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা জানান, কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে মনু মিয়া হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েন।
রোকন রেজা বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে আমি তাকে বলেছিলাম- অনেকে আপনাকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চায়। তিনি তখন জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।’
আরও পড়ুন
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও আর আগের মতো হয়ে উঠতে পারেননি। তার মৃত্যুতে আমরা একজন দয়ার সাগর, নিঃস্বার্থ মানুষকে হারালাম। এমন মানুষ সত্যিই বিরল।’
মনু মিয়ার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর নিঃস্বার্থ কর্মজীবনের উদাহরণ আজীবন মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম