
দেশের ৮৮ শতাংশ নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিদিন অন্তত এক বেলা পাউরুটি ও বিস্কুট খেয়ে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক বাজেটে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এমন চিত্র উঠে এসেছে ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্ক পরিচালিত এক জরিপে। দেশের ১৫টি স্থানে ১ হাজার ২২ জনের ওপর চালানো জরিপে আরও দেখা গেছে, মাসিক ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা আয়ের মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ সকালের নাশতা বাদ দিচ্ছেন সময় ও ব্যয়ের কারণে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সঞ্চালনা করেন ইআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি দৌলত আকতার মালা।
মূল প্রবন্ধে গবেষকরা জানান, মূল্যস্ফীতি, আয় বৈষম্য ও বেকারত্বের চাপে নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য প্রতিদিনের খাবারেও রয়েছে সংকট। সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে বিস্কুট ও পাউরুটির ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করায় এই চাপ আরও বেড়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “পাউরুটি ও বিস্কুটের মতো পণ্যে ভ্যাট থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে মৌলিক বিতর্ক রয়েছে। তবে আমাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দায়ও রয়েছে।” তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বাজেটের আকার কমানো হয়েছে—জনগণের ওপর চাপ কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, "ভবিষ্যতে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাতে হলে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে শুল্ক হার হ্রাস অন্যতম। বর্তমানে কিছু পণ্যে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়, যা ধাপে ধাপে কমাতে হবে।"
এছাড়া তিনি ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “বাড়তি ভ্যাট ব্যবসায়ীরা নিজেরা বহন না করে ভোক্তার ঘাড়ে দিচ্ছেন কিনা, সেটাও নজরদারির বিষয়।”
বাংলাদেশ বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া সেমিনারে বলেন, “পাউরুটি-বিস্কুটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভ্যাট আরোপ অমানবিক। আমি এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ ভ্যাটের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এফবিসিসিআইও এ বিষয়ে একমত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা না হয়ে বরং ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে।”
ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্কের গবেষণাপ্রধান ইমরুল হাসান বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্নআয়ের মানুষের ন্যূনতম পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাউরুটি ও বিস্কুটের ওপর ভ্যাট বাড়ানোয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র ও শিক্ষার্থী শ্রেণি।”
তিনি জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যাশা ছিল, বাজেটে এসব পণ্যে করছাড়ের সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বিভিন্ন মহলের মতে, পাউরুটি ও বিস্কুটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভ্যাট আরোপ সরকারের রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্য পূরণ করলেও তা সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর