
খুলনায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হামলার অভিযোগে সুকান্ত দাশ নামে এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এজন্য দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
গতকাল (২৪ জুন) বিকেলে নগরীর ইস্টার্নগেট এলাকা থেকে এসআই সুকান্তকে উত্তেজিত জনতা আটক করে খানজাহান আলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে রাত পেরোতেই সুকান্তের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। একে একে নগরীর খানজাহান আলী, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা ও সদর থানাসহ কোথাও তার অবস্থানের তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ‘খুলনায় জুলাই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হাত তোলা পুলিশ কর্মকর্তা সুকান্তকে কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো? এটি আইনের পরিপন্থী এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।’
তিনি জানান, বুধবার (২৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি চলবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।
এনসিপি খুলনার প্রধান সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন,‘শুনছি আওয়ামী পুলিশ লীগের নেতাদের চাপেই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই স্বৈরতান্ত্রিক চক্রের মুখোশ খুলতেই হবে। জনগণের সামনে সত্য আনতেই কেএমপি ঘেরাও।’
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, তাকে দৌলতপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাহার হোসেন জানান, তার থানায় এসআই সুকান্তকে আনা হয়নি। পরে আবার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখানেও এসআই সুকান্তকে পাওয়া যায়নি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, তার থানাতেও নেই সুকান্ত।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম স্বীকার করেন, ‘সুকান্ত বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত। অতীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।’
কেএমপির মিডিয়া উইংয়ের সহকারী উপ-কমিশনার খন্দকার হোসেন আহম্মেদ বলেন, ‘এসআই সুকান্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে বর্তমানে সে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে- সে বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই।’
নগরজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে- একজন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা, যার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম মনার বাড়ি ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা রয়েছে, তাকে জনতার হাতে ধরা পড়ার পর কিভাবে 'চুপিসারে' ছেড়ে দেওয়া হলো?
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। কেউ লিখছেন, ‘এই বিচারহীনতার কারণেই রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা কমছে।’ কেউ কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলছেন, ‘সুকান্তকে পেছন থেকে রক্ষা করছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম