প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ৩:৩০ পিএম

যাকে একসময় ‘অযত্নে বেড়ে ওঠা আগাছা’ হিসেবে দেখা হতো, সেই কচুরীপানা এখন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষদের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আর এই ‘ফেলনা’ কচুরীপানাই রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের ২৫টি দেশে- ব্যবহার হচ্ছে নানা রকম পরিবেশবান্ধব পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে।
নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম গাঁওখালীর সোনাপুর এখন কচুরীপানার সম্ভাবনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি ছোটখাটো শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কেন্দ্র। এই গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার যুক্ত রয়েছে কচুরীপানা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে। এর মধ্যে গৃহবধূ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই রয়েছেন, যারা বাড়তি আয় কিংবা একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন কচুরীপানাকে।
স্থানীয় গৃহবধূ সালেহা বেগম বলেন, ‘একসময় পরিবার চালানো ছিল খুব কষ্টের। এখন কচুরীপানা শুকিয়ে বিক্রি করে মাসে ৭-৮ হাজার টাকা আয় করি। সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে।’
উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন জানান, কচুরীপানা সংগ্রহের মৌসুম মূলত মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও সারা বছরই কাজ চলে। প্রতিদিন সকাল হলেই ছোট ছোট নৌকায় করে সংগ্রাহকরা নদী ও বিল থেকে কচুরীপানা নিয়ে আসেন। ২.৫ কেজি কাঁচা কচুরীপানা শুকিয়ে ১ কেজি হয়, যা বাজারে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
তিনি আরও জানান, এখানে প্রতি মাসে গড়ে ১০ টন কচুরীপানা কেনাবেচা হয়। বিনা পুঁজিতে এই পেশায় জড়িয়ে স্থানীয় মানুষজন এখন স্বাবলম্বী। এটা শুধু ব্যবসা নয়, একটা গ্রামীণ বিপ্লব।
এই কচুরীপানার আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফুলঝুড়ি, রঙিন পাপোশ, ফুলদানী, পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরণের হস্তশিল্প। পরিবেশবান্ধব এইসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ২৫টি দেশে।
এক সময় যাকে পানি থেকে সরাতে ব্যয় হতো কোটি টাকা, সেই কচুরীপানাই এখন রপ্তানিযোগ্য কাঁচামাল। এটি যেমন আর্থিক স্বাবলম্বিতার সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি পরিবেশবান্ধব শিল্পের একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্তও হয়ে উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম