
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০টি সামরিক ট্যাংকার বিমান ইউরোপে সরিয়ে নিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই এই খবর নিশ্চিত করেছে।
এই বিমানগুলো যুদ্ধবিমান ও বোমারু জেটগুলোকে আকাশেই জ্বালানি দিতে সক্ষম, যা বড় ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তৎপরতা একেবারেই স্বাভাবিক নয় এবং এটি ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে।
গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালায়। এই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে টানা ছয় দিন ধরে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
ইসরায়েল বলছে, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যেই তারা শুক্রবারের হামলা চালিয়েছিল। ইরানের ওপর হামলায় তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও শিগগিরই যুক্ত হবে বলে অনেকেই অনুমান করছে।
তার মধ্যেই ওয়াশিংটন এতগুলো ট্যাংকার মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি নিয়ে এল। তাদের এ পদক্ষেপ আদৌ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ট্যাংকার বিমানগুলোর স্থানান্তর যে ‘একেবারেই স্বাভাবিক নয়’ তা বলছেন এক বিশেষজ্ঞ।
থিংকট্যাঙ্ক রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলছেন, আসছে সপ্তাহগুলোতে ওই অঞ্চলে ‘তীব্র সামরিক অভিযানে সহায়তার লক্ষ্যে’ পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে বলে ‘জোরাল আভাস’ পাওয়া যাচ্ছে।
বিবিসি ভেরিফাই যে ৭টি ট্যাংকার জেটের গতিপথ পর্যালোচনা করেছে, সেগুলো ইউরোপের ঘাঁটিতে নামার পরও বিভিন্ন দিকে গেছে। মঙ্গলবার বিকালে সিসিলির পূর্ব দিকে এগুলোকে উড়তে দেখা গেছে বলে তাদের ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে। এ ট্যাংকারগুলোর ৬টির কোনো সুনির্দিষ্ট গন্তব্য ছিল না, একটি পরে নামে গ্রিসের ক্রেট দ্বীপে।
আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান, ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বলছেন, এসব ট্যাংকারগুলো ইরানকে ভয় দেখাতেও মোতায়েন করা হতে পারে, যেন তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেয়।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিট্জকে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসছে বলে খবর বেরিয়েছে। এই সপ্তাহের শেষদিকে রণতরীটির ভিয়েতনামের দানাংয়ে থাকার কথা ছিল।
কিন্তু ‘হঠাৎ উদ্ভূত জরুরি কাজের প্রয়োজনে’ এটি ভিয়েতনাম না গিয়ে অন্য গন্তব্যে রওনা হয়েছে বলে হ্যানয়ের মার্কিন দূতাবাসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিক জানায়, মঙ্গলবার ভোরের আগে রণতরীটি মালাক্কা প্রণালীতে ছিল এবং সিঙ্গাপুরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট মনে করেন, এসব পদক্ষেপ ইরানকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ দিতে এবং পরমাণু কার্যক্রমে ছাড় দিতে বাধ্য করতেও হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম