প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ৯:৩৩ AM আপডেট: ১৮.০৬.২০২৫ ১২:৫২ PM

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্টে ইরানকে নিয়ে কড়া বার্তা দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ এক পোস্টে তিনি সরাসরি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন, তা যুক্তরাষ্ট্র জানে এবং চাইলে তাঁকে হত্যা করা সম্ভব। তবে মার্কিন নাগরিক ও সেনাদের ওপর সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে আপাতত সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমরা জানি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে আছেন। তাকে (হত্যার) নিশানা করা খুব সহজ। কিন্তু তিনি সেখানে নিরাপদ। আমরা তাকে মারব না, অন্তত এখন নয়। আমরা চাই না নাগরিকদের ওপর কিংবা আমেরিকার সেনাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হোক। কিন্তু আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।’
এরপরই আরেক পোস্টে তিনি ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে লেখেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। এর আগে ট্রাম্প ইরানি নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব রাজধানী তেহরান ছেড়ে যাওয়ার তাগাদা দেন।
ইরান পরমাণু অস্ত্র বানানোর চিন্তা ছেঁটে ফেলার চুক্তি প্রত্যাখ্যান করায় এখন এ সতর্কবার্তা দিতে হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ইরানের উচিত ছিল আমি যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বলেছিলাম, সেখানে স্বাক্ষর করা। কী লজ্জা, কী পরিমাণ মানুষের জীবনের অপচয়। সহজ করে বলি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। আমি বারবার এটা বলেছি। সবারই উচিত দ্রুত তেহরান ছেড়ে চলে যাওয়া।’ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এমনটাই বলেন।
জি ৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে কানাডা থেকে হঠাৎ ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও ইরানকে নিয়ে কড়া সুরই শোনা গেছে ট্রাম্পের কণ্ঠে।
তিনি বলেছেন, ‘ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিলোপ করে দেওয়া প্রয়োজন।’
ইরান-ইসরায়েল লড়াই কীভাবে বন্ধ করা পছন্দ করবেন সে বিষয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি করে নয়, বরং ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিহার করলেই সংঘাতের প্রকৃত অবসান ঘটবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম