
বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন কামাররা
একদিন পরই ঈদুল আযহা। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানির পশু কিনতে বিভিন্ন হাটে হাটে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন ছুরি, দা, বটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির। তবে এবার আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না কামারশালা গুলোতে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সরেজমিনে টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের কামারের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দা, বটি, চাপাতি, ছুরি, দেশি কুঠার, চাইনিজ কুড়াল সহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন কামাররা। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও আগের মতো জমে উঠেনি ক্রয়-বিক্রয়।
কামারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, দা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, বটি ৯০০ থেকে হাজারের উপরে, পশু জবাই করার ছুরি ৮০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, চাইনিজ কুড়াল ৮০০, দেশিও কুঠার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা।তারা জানায়, কামাররা প্রায় সবাই পৈত্রিক সুত্রে এ পেশা পেয়েছেন। তাই এ পেশাকে তারা ঐতিহ্য হিসাবে ধরে রাখছেন।
কামার সত্যরঞ্জন দাস ও উদয় সরকার জানান, তাঁরা ৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। আগের মতো আর তেমন কাজ নেই। এখন তাদের এ পেশায় নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থা। সারা বছর কাজ না থাকায় মুসলমানদের ধর্মীয় এ উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন। তাতে কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠা যায়। বাপ-দাদার পেশা, এ পেশায় জীবন বাঁচান, ছাড়তেও পারেন না। তারপরেও কয়লার দাম বেশি হওয়ায় তাদের পণ্য তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর সাথে কাজ করা লোক ও এখন আর পাওয়া যায় না, পরিশ্রম বেশি তাই এ পেশা থেকে লোক সরে যাচ্ছে। আগে কয়লা ও লোহার দাম কম ছিল, তাই খাটা খাটনি করে ভালো দাম পাওয়া যেত। এখন তেমন টা হয় না।
তারা আরো জানান, বাপ-দাদার পৈত্তিক এই পেশায় জীবন বাঁচানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পেটের দায়ে পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই এখন অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারে জেলা সদর থেকে আসা ক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, গরু কোরবানীর জন্য দা, ছুরি ও চাপাতির অর্ডার দিয়েছেন। ঈদের সময় দাম একটু বাড়ে। কোরবানির পশু কিনতে যে সময় লাগে সরঞ্জামাদী দেখে-শুনে-বুঝে কিনতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগছে। গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু কম বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া এবার কামারের দোকানগুলোতে ভিড়ও নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস