
ফাইল ছবি
বগুড়ায় শরিয়াহভিত্তিক অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রলোভনে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা আমিরুজ্জামান পিন্টু—এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সহস্রাধিক নেতাকর্মীসহ বহু বিনিয়োগকারী।
পিন্টু ‘রেইনবো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’, ‘রেইনবো হোমস’, ‘রেইনবো কৃষি উন্নয়ন সংস্থা’ এবং ‘রেইনবো হাসপাতাল’ নামের একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো মুনাফা বা মূলধন ফেরত দিচ্ছে না। সর্বশেষ ২ জুন প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী টাকা নিতে গিয়ে বিনিয়োগকারীরা তাকে খুঁজে পাননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, আমিরুজ্জামান পিন্টু একসময় ফারইস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে মালগ্রাম, গালাপট্টি ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করেন। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মধ্যে তার ব্যাপক পরিচিতি থাকায় অনেকেই তাকে বিশ্বাস করে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করেন।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ফজলুর রহমান জানান, পিন্টু তার সাবেক ছাত্র হওয়ায় তার ওপর আস্থা রেখে তিনি ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র সাত লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন। তিনি জানান, বহু বিনিয়োগকারী তাদের জমি বিক্রি করে ও বিদেশফেরত আয় থেকে পিন্টুর প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়েছিলেন।
২ জুন বিনিয়োগকারীরা পিন্টুর বাড়ি ও হাসপাতাল ঘেরাও করেন, কিন্তু কোথাও তার দেখা মেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হামিদুল হক তোতাকেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনিও কিছু অর্থ দিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
প্রতারণার শিকার বিনিয়োগকারীরা জানান, থানা ও র্যাব অফিসে গেলেও তারা সহযোগিতা পাননি। বর্তমানে তারা সরকারি হস্তক্ষেপ ও আইনি প্রতিকার দাবি করছেন। কেউ কেউ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বগুড়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির আবিদুর রহমান সেহেল বলেন, আমিরুজ্জামান পিন্টুর সঙ্গে দলটির বর্তমানে কোনো সম্পর্ক নেই। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে বারবার সমবায় বা এনজিও কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও কেউ তা না মানলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আমিরুজ্জামান পিন্টুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর