
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯ জন চিকিৎসক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি হারাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। একই ঘটনায় আরও ১০ জনকে তিরস্কার ও সতর্ক করা হয়েছে।
জানা গেছে, ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মারামারি, ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্ত কমিটি তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৬ (ঠ) ধারা অনুযায়ী চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করে, যা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. রিয়াদ সিদ্দিকী, পেইন্টার নিতীশ রায়, ড্রাইভার সুজন বিশ্বশর্মা, এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স শবনম নূরানীসহ আরও অনেকে। একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও ২৩ জন চিকিৎসককে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরও চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, নিউরোলজির অধ্যাপক ডা. মো. আহসান হাবিব, এবং ক্লিনিক্যাল অনকোলজির অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ। এছাড়া, অধ্যাপক ডা. এএইচএম জহুরুল হকের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গ করে পদোন্নতির আবেদন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগটি করেছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাসিমা আখতার।
সিন্ডিকেট সভা চলাকালে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার, গালিগালাজ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৯ চিকিৎসক ও ১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের তিরস্কার ও সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ২২ জন কর্মচারীকে ভুতাপেক্ষাভাবে সব আর্থিক সুবিধা প্রদান, ৯৬ জনের চাকরি স্থায়ী এবং ২২ জনের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, “তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান, তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর