
বিশ্বজুড়ে গরুর দুধ যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, পুষ্টিগুণ এবং বিশেষ গুণাবলির কারণে নানা প্রাণীর দুধের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ছাগল কিংবা মহিষের দুধ অনেকেই স্বাস্থ্যগত কারণে গ্রহণ করে থাকেন। তবে আপনি কি জানেন, বিশ্বের সবচেয়ে দামি দুধ কোন প্রাণীর? উত্তরটা একটু অপ্রত্যাশিত হলেও সত্যি—সেটি হলো গাধার দুধ! আর এই দুধের দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে অনেকের। ভারতে এক লিটার গাধার দুধের দাম প্রায় ৫০০০ রুপি!
গাধার দুধের এই অতিমূল্যের পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, এটি অত্যন্ত দুর্লভ। একটি গাভী যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২ গ্যালন (প্রায় ৪৫ লিটার) পর্যন্ত দুধ দিতে পারে, সেখানে একটি গাধা দিনে বড়জোর ১ লিটার দুধ দেয়—তাও সবসময় নয়। গাধা অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী হওয়ায় পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনেও তাদের দুধ উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। অনেক সময় দিনে ১ লিটার দুধ পাওয়াটাও হয়ে ওঠে কঠিন।
এই সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণেই গাধার দুধের বাজারমূল্য অন্য সব প্রাণীর দুধের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতে যেখানে গরুর দুধের দাম প্রতি লিটার ৫০-৬০ রুপির মধ্যে, সেখানে গাধার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ রুপিতে, অর্থাৎ প্রায় ১০০ গুণ বেশি।
পুষ্টিগুণে অনন্য
গাধার দুধের উচ্চমূল্যের আরেকটি বড় কারণ হলো এর পুষ্টিগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাধার দুধে থাকা উপাদানগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এবং প্রোটিন। গবেষণায় দেখা গেছে, গাধার দুধের পুষ্টিগুণ মানব মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে অনেকটা মিল রাখে।
এ ছাড়া, এটি স্বাদে মিষ্টি এবং হজমে সহজ। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট ব্যক্তিরাও গাধার দুধ পান করতে পারেন, কারণ এতে ল্যাকটোজের মাত্রা খুবই কম। এজন্যই এই দুধ শিশু থেকে শুরু করে রোগাপীড়িত ব্যক্তিদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়।
এতদিন পর্যন্ত গাধার দুধের ব্যবহার সীমিত থাকলেও বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় এর ব্যবহার বাড়ছে ব্যাপক হারে। অনেকে আবার এই দুধ দিয়ে প্রসাধনী প্রস্তুত করছেন, কারণ এতে চামড়ার জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-এজিং উপাদান রয়েছে।
স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং বিরলতার কারণে গাধার দুধ এখন বিলাসবহুল খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠছে। যদিও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে এর মূল্য, তবু স্বাস্থ্যসচেতন ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত বাজার দখল করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর