প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ১:১৭ AM আপডেট: ২৮.০৫.২০২৫ ১:২৩ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্রদল সমর্থিত এক শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। সাফওয়ান আহমেদ ইফাজ নামের ওই শিক্ষার্থীকে মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয়।
আহতের ভাষ্যমতে, হামলার সময় চারজন ছিল, তবে তাদের তিনি সনাক্ত করতে পারেননি। ইফাজ সন্দেহ করছেন, হামলাকারীরা গুপ্ত সংগঠন কিংবা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কেউ হতে পারে। ইফাজ এনার্জি সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী, বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
তবে এই ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়ে গুপ্ত সংগঠনকে দায়ী করেন। ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ছাত্রদল এসব ঘটনার ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।”
পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি আরাফাত হক মিলন এবং রাকিব হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা কিংবা দায় চাপানোর অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগের এক চেয়ারম্যানের ছেলে ইমতিয়াজ কায়সার আওয়ামী লীগকে দোষী করে ফেসবুকে লিখেন, ”ইফাজের ওপর হামলায় উপর জড়িত রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রাজন কুমার রাহা জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যাই এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি। তবে উপাচার্যের পদটি খালি থাকায় এখনই তদন্ত কমিটি গঠন সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর