
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ছাত্রী প্রবেশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটি বাংলা বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ছাত্রদের আবাসিক হলে ছাত্রীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, ওই ছাত্রী একটি রুমে বসে আছেন। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন একই ব্যাচের শিক্ষার্থী এফ. এম. প্রত্যয়, আমিনুল ইসলাম, সামিদুল ইসলাম এবং মো. রাশেদ। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৫২ তম ব্যাচের (২০২২-২৩ সেশনের) শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের। তখন নজরুল হল সদ্য চালু হয়েছে। আমরা নতুন রুমে উঠেছিলাম, তাই আমাদের এক বান্ধবীকে রুম দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ছবিটি তোলা হয়েছিল হলের ৫২৭ নম্বর কক্ষে, ৫ম তলায়।
ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক শিক্ষার্থী বলেন, হল হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেখানে নীতিমালা ভেঙে কেউ প্রবেশ করলে তা অন্যদের জন্য অস্বস্তিকর ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে।
অভিযুক্ত ছাত্রী বলেন, ছবিটি অনেক আগের, সম্ভবত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের। তখন কাজী নজরুল ইসলাম হলটি অফিসিয়ালি চালু হয়নি। এমনকি হলে কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও ছিল না। অনেকেই তখন হলে গিয়ে ছবি তুলেছিল। আমি সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলাম, কিছুক্ষণ থেকে চলে এসেছি। আমার সঙ্গে আরও ৭-৮ জন বন্ধু ছিল। কিন্তু এখন হঠাৎ করে পুরনো একটি ছবি ভাইরাল করে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এটা এক ধরনের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কেন হঠাৎ করে এখন এই ছবি ছড়ানো হলো, সেটা আমার জানা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ছেলেদের হলে ছাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবুও কেন আপনি গিয়েছিলেন — এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, এটা অবশ্যই আমার ভুল হয়েছে। তবে তখন হলে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো না।
ছবিতে থাকা আরেক শিক্ষার্থী সাদিমুল ইসলাম বলেন, 'এটা হল উদ্বোধনের দিনের ছবি।এই ছবিতে আমি নিজে আছি। হলে মেয়ে প্রবেশ দেখে আমরাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ভাবলাম প্রথমদিন তাই হয়তো হল প্রশাসন ঢুকতে দিয়েছে। এখানে আমি সম্পূর্ণ হল প্রশাসনের ব্যর্থতা দেখতে পাচ্ছি।'
এ বিষয়ে ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে অফিস সময়ের বাইরে থাকায় অনলাইনের মাধ্যমে কমিটির কাছে প্রাথমিক তথ্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ছেলেদের হলে ছাত্রী প্রবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী। যেহেতু এটি হল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই প্রভোস্ট এবং ওয়ার্ডেন কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর