বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে স্পেসএক্স পরিচালিত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক।
মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে শুরু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব জায়গায় পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ।
প্রচলিত এ ইন্টারনেট ব্যবস্থায় প্রচুর তারের ব্যবহারের পাশাপাশি রয়েছে সরকারি নিয়ন্ত্রণও। এছাড়াও দুর্গম অঞ্চলে বেশ কঠিন কাজ ব্রডব্যান্ড এ ইন্টারনেট পৌঁছানো। তবে এসব সমস্যা সমাধানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এক দারুণ সমাধান।
স্টারলিংক কী
ভূপৃষ্ঠে থাকা গ্রাউন্ড স্টেশন, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা স্যাটেলাইট ও রিসিভার অ্যান্টেনার মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যেকোনো দুর্গম স্থানে পাঠানো যায় সংকেত। তাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানেও অতি সহজে পাওয়া যায় রি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট।
বর্তমানে পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে সফলভাবে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে স্টারলিংক। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ কি.মি. ওপরে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ঘুরছে প্রতিষ্ঠানটির হাজারো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ।
প্রায় ৭ হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ জালের মতো ঘিরে রেখেছে পৃথিবীকে। স্টারলিংক ইন্টারনেটের এ পুরো প্রক্রিয়ায় তিনটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাউন্ড স্টেশন, স্যাটেলাইট ও রিসিভার অ্যান্টেনা।
যেভাবে স্টারলিংক সংযোগ নেওয়া যাবে
মূল ইন্টারনেটের সাথে পৃথিবীতে অবস্থিত গ্রাউন্ডে স্টেশনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে এর স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক।
প্রথমে স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণ করা হয়। এরপর তা ফাইবার অপটিকস কেবলের মাধ্যমে যুক্ত ডেটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেন্টারে। আবার ডেটা সেন্টারের সার্ভার থেকে ডেটা এনে তা পাঠানো হয় স্যাটেলাইটে। এভাবে সার্বক্ষণিক সংকেত আদান প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজির করা হয় কাঙ্ক্ষিত তথ্য।
বাংলাদেশের গ্রাহকরা স্টারলিংকের সংযোগ পেতে সরাসরি স্টারলিংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট starlink.com এ গিয়ে অর্ডার দিতে পারবেন। অর্ডার করতে প্রথমে আপনার ঠিকানা দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে সেখানে সেবা পৌঁছানো সম্ভব কি না। এরপর একটি সার্ভিস প্ল্যান বেছে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে হার্ডওয়্যার কিট কেনার প্রক্রিয়া।
স্টারলিংকের প্যাকেজে মোট খরচ
স্টারলিংক সংযোগের এ স্ট্যান্ডার্ড কিটে থাকবে একটি স্যাটেলাইট ডিশ, ওয়াইফাই রাউটার, মাউন্টিং ট্রাইপড ও ক্যাবল। প্রয়োজনীয় সংযোগ দিয়ে স্যাটেলাইট ডিশটির ফাঁকা জায়গায় আকাশের দিকে মুখে করে স্থাপন করতে হবে। হার্ডওয়্যার কিটটির মূল্য পড়বে ৪৭ হাজার টাকা।
স্টারলিংক ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য তারা প্যাকেজ দিচ্ছে দুটি। প্রথমটি স্টারলিংক 'রেসিডেনশিয়াল'। যার খরচ প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা। আর 'রেসিডেনশিয়াল লাইট' এর জন্য খরচ মাসে ৪ হাজার ২০০ টাকা।
এ ছাড়া এছাড়াও রয়েছে 'রোম' প্যাকেজ। যেটি যেকোনো স্থানে ঘুরতে গেলে বা চলন্ত অবস্থায় স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ পেতে ব্যবহার করা যাবে। এর জন্য প্রতি মাসে খরচ ছয় হাজার টাকা। 'রোম' এর ছয় হাজার টাকার এ প্যাকেজে ৫০ জিবি পর্যন্ত ডেটা পাওয়া যাবে। আর আনলিমিটেড ডেটার জন্য নিতে হবে ১২ হাজার টাকার 'রোম আনলিমিটেড' প্যাকেজটি।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও রয়েছে স্টারলিংকের বিভিন্ন প্যাকেজ। স্টারলিংকের লোকাল প্রায়োরিটি প্যাকেজের ৫০ জিবির মূল্য ৪ হাজার ৬০০ টাকা, ৫০০ জিবির মূল্য ১১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১ টেরাবাইটের মূল্য ২০ হাজার ৮০০ টাকা।
এছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্টারলিংকের গ্লোবাল প্রায়োরিটি প্যাকেজের ৫০ জিবির মূল্য ৩২ হাজার টাকা, ৫০০ জিবির মূল্য ৮৪ হাজার টাকা এবং ১ টেরাবাইটের মূল্য ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
স্টারলিংক সংযোগ নিয়ে ৩০ দিন ব্যবহারের পর সেবা 'সন্তোষজনক' মনে না হলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয় ওয়েবসাইটটিতে।