
ভারতের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক অভিযানসংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
গ্রেপ্তার হওয়া অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ (৪২) আশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর খবরে বলা হয়, রোববার রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসংলগ্ন সোনিপতে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
ভারতের ফৌজদারি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মাহমুদাবাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকানি, এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ।
এর আগে শনিবার বিজেপির যুব সংগঠনের হরিয়ানা শাখার সাধারণ সম্পাদক যোগেশ জাতেরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিনই পুলিশ মাহমুদাবাদকে গ্রেপ্তার করে।
এই গ্রেপ্তারের পেছনে মাহমুদাবাদের ৮ মে-র একটি ফেসবুক পোস্টকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি লেখেন—
“কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে অনেক ডানপন্থী প্রশংসা করছেন দেখে ভালো লাগছে, তবে তাঁদের আরও জোরে বলতে হবে—যারা গণপিটুনির শিকার, যাঁদের বাড়ি বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সুরক্ষা পান।”
তিনি আরও লেখেন, “দুই নারী সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রেস ব্রিফিং নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাস্তবে যদি এই প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে সেটি কেবল ভণ্ডামি।”
পোস্টে উল্লেখ থাকা কুরেশি একজন মুসলিম নারী সেনা কর্মকর্তা, যাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক অভিযানের (অপারেশন সিন্দুর) প্রেস ব্রিফিং হচ্ছিল।
হরিয়ানা নারী কমিশন অভিযোগ করে, মাহমুদাবাদের মন্তব্য “নারী সেনা কর্মকর্তাদের অবমাননা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়”। কমিশন তাঁকে তলবও করে।
তবে মাহমুদাবাদ বলেন, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে তিনি লেখেন, “আমার মন্তব্য ছিল নাগরিক ও সৈনিক—উভয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এতে নারীদের বিরুদ্ধাচরণ ছিল না।”
এদিকে দেশে ও দেশের বাইরে শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীরা মাহমুদাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটি খোলা চিঠিতে প্রায় ১২০০ জন সই করেছেন। সেখানে বলা হয়, “অধ্যাপক খান সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সংযমের প্রশংসা করেছেন এবং নারী কর্মকর্তাদের মিডিয়া ব্রিফিংকে একটি ইতিবাচক চিহ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।”
প্রসঙ্গত, ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কয়েক দিন ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের ৩১ এবং ভারতের ১৫ জন নিহত হন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ