প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম আপডেট: ২৬.০৪.২০২৫ ১:৩৯ PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাদামের চাষ। বাদাম চাষ করে কৃষকরা দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন। চলতি বছরের রবি মৌসুমে পুরো উপজেলায় বাদামের চাষ হয়েছে প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে, নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের লাপাং, দড়িলাপাং, চর লাপাং, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণনগর, বীরগাঁও ইউনিয়নের নজরদৌলতে নজর কেরেছে বাদামের আবাদ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষ বেশি লাভবান হওয়ায় বাদাম চাষকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীনগরে প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক রবি এবং খরিপ মৌসুম জুড়ে বাদাম চাষ করেন। বাদামের রোগ বালাই প্রকোপ একবারে কম। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘা প্রতি ৭ থেকে ৮ মণ বাদামের ফলন পাওয়া যায়। যার ফলে বাদাম চাষ করে অধিক আয় করা সম্ভব। এছাড়াও বাদাম চাষে কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়। যার ফলে স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি এখন আশেপাশের অনেকেই বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষ্ণনগরের কৃষক মনির হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৯ বিঘা জমিতে তিনি চিনাবাদাম আবাদ করেছেন। চিনাবাদাম চাষের জন্য এই মাটি বেশ উপযোগী হওয়ায় এই মাটিতে চিনাবাদামের ফসল বেশ ভালো হয়। ফসল ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি ৭ থেকে ৮ মণ ফলন পাওয়া যায়।’
লাপাং গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘বাদাম চাষে রোগ বালাই প্রকোপ একবারে কম। যার ফলে বাদাম চাষে অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব। চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে তিনি বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো ফলন হয়েছে।’
নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘নবীনগরের অন্যতম অর্থকরী ফসল বাদাম। নবীনগরের চর এলাকাগুলোতে বাদাম সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়। কৃষকদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। বাদাম অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় আগামীতে এখানে বাদামের চাষ আরো বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম