
ভারত-শাসিত কাশ্মিরে বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলাই ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। হিন্দু উগ্রদাদীদের চাপে থাকা ভারতীয় মুসলিমরা কাশ্মীরে এই হামলার ফলে আরো বৈষম্যের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাশ্মিরের এই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং এই ঘটনায় পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে ভারত।
তবে কাশ্মিরের এই হামলাকে ‘সাজানো’ নাটক বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। অবশ্য এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ সামনে আনেনি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটি। শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পর্যটক হত্যাকাণ্ড ছিল “পরিকল্পিত একটি ঘটনা”।
পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের সাজানো একটি 'ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন' (ঘটনা নিজে ঘটিয়ে দায় শত্রুর ওপর চাপানো)।
কাশ্মীরের ঘটনায় পাকিস্তানে প্রাক্তন সিনেটর ও অভিজ্ঞ পররাষ্ট্র নীতিবিদ মুশাহিদ হুসেইন সৈয়দ ভারতের ‘স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া’ বা ‘অটো-ব্লেম’ সংস্কৃতিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ভারত কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর তদন্ত ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করার অভ্যাসে পরিণত করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাফর এক্সপ্রেসে হামলা কিংবা এখন পহেলগাঁওয়ের ঘটনাও সেই একই চেনা পথে হাঁটছে— তদন্তের আগেই দায় চাপানো। এটা ভারতের পুরোনো অভ্যাস হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত সরকারের দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ভারত সরকার যে অভিযোগ করছে, আমি তা জোরালোভাবে নাকচ করছি।”
এর আগে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দেশটির একটি বেসরকারি চ্যানেলে বলেন, “ভারতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো শিশুসুলভ এবং এতে গুরুত্বের অভাব রয়েছে।”
উল্লেখ্য, কাশ্মিরের ভারত-শাসিত অঞ্চলে ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে। বহু কাশ্মিরি মুসলিম বিদ্রোহীদের সমর্থন করেন এবং তারা চায়, অঞ্চলটি হয় পাকিস্তানে যোগ দিক অথবা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক।
পাকিস্তানি বিশ্লেষকদের মতে, এমন ‘অভ্যাসগত দোষারোপ’ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি, বাস্তব সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবেই কাজ করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ