প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৩৩ AM আপডেট: ২৫.০৪.২০২৫ ৯:৫১ এএম

জুলাই আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।গতকাল রাতে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে স্থানীয় বিএনপি নেতকর্মীরা তার বাড়ির সামনে অবস্থান নিলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এদিকে তাকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে তার কথিত দুলাভাইয়ের বড় ভাইকে পেটান ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুর এলাকার নিজ বাড়ি দেলোয়ার টাওয়ারে অবস্থান করছিলেন অভিনেতা সিদ্দিক। গতকাল ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুরের স্থানীয় এক বন্ধুসহ কথিত দুলাভাইয়ের বাড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন তিনি। এ খবর পেয়ে তাকে আটকের জন্য বাড়ির সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীসহ ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। এদিকে বাড়ির সামনে অনেক লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় বন্ধু ও তার দুলাভাই সিদ্দিককে দ্রুত পালানোর পরামর্শ দেয়। তাদের পরামর্শে সিদ্দিক কৌশলে পালিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি টের পাওয়ার পর বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে তারা দেখতে পান স্থানীয় অধিবাসী এবং সিদ্দিকের কথিত দুলাভাই জামিল আহম্মেদ তাকে গাড়িতে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে জামিল আহম্মেদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাসায় তখন জামিল আহম্মেদ ছিলেন না। এদিকে বাসার সামনে হই-হুল্লোর দেখে তার ভাই আনোয়ার হোসেন কুডু বিষয়টি জানতে বাড়ির নিচে আসেন। জামিলের সাথে ভাই আনোয়ার হোসেন কুডুর চেহারার মিল থাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে জামিল আহম্মেদ ভেবে ব্যাপক মারপিট করে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে সিদ্দিক মামলার কথা স্বীকার করলেও ছাত্র হত্যায় তিনি জড়িত নন বলে জানান।
এ ঘটনায় আহত আনোয়ার হোসেন কুডু বাদি হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামি ধরার জন্য অভিযান চালাচ্ছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর