বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
বাংলাদেশের নদী ভাঙন ও জমির অধিকার
সুমাইয়া রিফাত আনিকা
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৫৩ পিএম

‘এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে 
এই তো নদীর খেলা।
সকাল বেলা আমির রে ভাই, 
ফকির, সন্ধ্যাবেলা’
কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার পংক্তিগুলো বাংলাদেশের নদীভাঙনের বাস্তবতাকে জীবন্ত করে তোলে। প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হাজারো মানুষ তাদের জমি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন, যা জমির মালিকানা নিয়ে জটিল আইনি বিরোধ সৃষ্টি করছে।  

নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে জমির ধীরে ধীরে ক্ষয় বা নতুন জমি সৃষ্টি হওয়াকে যথাক্রমে ডিলুভিয়ন ও অ্যালুভিয়ন বলা হয়। ১৮২৫ সালের 'বেঙ্গল অ্যালুভিয়ন অ্যান্ড ডিলুভিয়ন রেগুলেশন' এবং পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের 'স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনান্সি অ্যাক্ট' অনুযায়ী, নদীভাঙনে হারানো জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে পুনর্গঠিত হয়, তবে মূল মালিক বা তার উত্তরাধিকারী তা ফেরত পেতে পারেন। অন্যদিকে নতুন সৃষ্ট চর জমি সরকারের মালিকানায় যায়। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ প্রায়ই অকার্যকর।  

চর জমির উর্বরতা এটিকে লোভনীয় লক্ষ্যে পরিণত করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদরা সরকারি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে অবৈধভাবে এসব জমি দখল করে নেন। লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে তারা জমি রক্ষা করেন, এমনকি সহিংসতাও ঘটান। প্রকৃত ভূমিহীনরা আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত হন।  

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ ১.৩ কোটি জলবায়ু অভিবাসী সৃষ্টি হতে পারে। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন, যেখানে তাদের জীবনযুদ্ধে নামতে হয় রিকশাচালক বা দিনমজুর হিসেবে। সরকার ও এনজিওগুলোর সহায়তা এই সংকট মোকাবেলায় অপর্যাপ্ত।  

নদীভাঙন রোধে ড্যাম ও ব্যারাজ নির্মাণ জোরদার করা এবং ভূমিহীনদের জন্য চর জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থায়ী আশ্রয় ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত দাবিদারদের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

নদীভাঙন ও জমির অধিকার বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল ও ক্রমবর্ধমান সমস্যা। আইনগত সংস্কার, সামাজিক সচেতনতা ও সরকারি পদক্ষেপের সমন্বয়ে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব। নদীর খেলায় যেন মানুষের জীবনের খেলা না হারায়, সেদিকে সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন।

লেখক: আইনের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস।

স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর





Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close