
বাংলাদেশে চালু হচ্ছে নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অরবিট (এনজিএসও) স্টারলিংক। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। স্টারলিংকের মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে, যেখানে বর্তমানে প্রচলিত অপারেটরদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অরবিট (এনজিএসও) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা বর্তমানে বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে ঘুরছে, যেখানে সাধারণ স্যাটেলাইটগুলো থাকে ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উপরে। ফলে স্টারলিংক দ্রুত ও স্থিতিশীল সংযোগ দিতে সক্ষম।
এই প্রযুক্তির ইন্টারনেট গতি ডাউনলোডের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ২২০ এমবিপিএস পর্যন্ত এবং আপলোডের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ২০ এমবিপিএসের মধ্যে হতে পারে। গ্রাহকদের একটি অ্যান্টেনা ডিভাইস বসাতে হবে, যা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে ইন্টারনেট সরবরাহ করবে। ডিভাইসের সঙ্গে একটি রাউটার সংযুক্ত থাকলে বাসা বা অফিসে সহজেই সংযোগ পাওয়া যাবে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে স্টারলিংক বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তি নিয়ে আসে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সঙ্গে বৈঠক করে। একই সময়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ‘নন-জিওস্টেশনারি অরবিট স্যাটেলাইট সার্ভিস অপারেটর’ শিরোনামে একটি খসড়া নির্দেশিকা তৈরি করে।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের সম্ভাব্য আগমন ঘিরে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন লিমিটেড এবং দুবাই-ভিত্তিক একটি কোম্পানি স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।
তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সেবা পেতে কত খরচ হবে? স্টারলিংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কিটের মূল্য ৩৪৯ থেকে ৫৯৯ মার্কিন ডলার এবং রেসিডেনশিয়াল গ্রাহকদের মাসিক ফি ১২০ ডলার। কর্পোরেট গ্রাহকদের জন্য এই খরচ দ্বিগুণের বেশি । তবে স্পেসএক্স অঞ্চলভেদে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। আফ্রিকার কিছু গ্রামে এই পরিষেবা মাত্র ১০ থেকে ৩০ ডলারে দেয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে বলে আশা করা যায়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ইলন মাস্কের সঙ্গে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও নারীদের জন্য এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্টারলিংকের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় নতুন গতিশীলতা আসবে। লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বৈশ্বিকভাবে নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ পাবেন, যা অর্থনীতির জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা বহন করতে সক্ষম।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম