প্রকাশ: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:১৭ পিএম আপডেট: ১৪.০৪.২০২৫ ৮:২৯ PM

কুষ্টিয়ায় বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আনন্দ শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) পাশে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বের হয় শোভাযাত্রা। শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে বনবীথি প্রাঙ্গণে গিয়ে এটি শেষ হয়। শোভাযাত্রার ব্যানার ধরে সামনের সারিতে দেখা যায় জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেমকে।
মোকারম কুষ্টিয়া পৌর ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি। জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় তামজিদ হোসেন জনিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত ৪২ নম্বর আসামি। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি মাহবুব উল আলম হানিফ। ৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০–৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি তাকে চিনি না, খেয়ালও করিনি। এত মানুষের ভিড়ে কারা ব্যানার ধরে থাকে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যদি তিনি মামলার আসামি হন, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। এখনই বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
এ ব্যাপারে মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম গণমাধ্যমকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া এবং তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।’
এদিকে নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলীয় নেতারা ঘটনাটিকে নিন্দনীয় ও গভীর অবহেলার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি সুলতান মারুফ তালহা বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহায়তা করে, তারা যে-ই হোক, নিন্দার যোগ্য।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। মামলার আসামিদের নিয়ে এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ঘটনাটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবহেলা না সচেতন সহাবস্থান-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সবার নজরে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম