প্রকাশ: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:৪০ পিএম

রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় টাকার বাজার, যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মতোই লেনদেন হচ্ছে পয়সা থেকে শুরু করে হাজার টাকার নোট পর্যন্ত। এই বাজারে শুধু দেশের মুদ্রাই নয়, বৈদেশিক মুদ্রারও ব্যাপক লেনদেন হয়ে থাকে। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই বাজারটি চালু রয়েছে। এখানকার দোকানগুলোতে সারা দেশের নানা ধরনের ব্যবহৃত ও অচল টাকা লেনদেনের জন্য জমা হয়।
এই বাজারে পাওয়া যায় ছেড়া, ফাটা বা আগুনে পোড়া টাকার নোট যার বেশিরভাগই আসলে ব্যবহারের অযোগ্য। এসব টাকার সঙ্গে পয়সা, হাজার টাকার নোট, এমনকি আদিম যুগের পয়সাও লেনদেন হয় এখানে। ব্যবসায়ীরা এসব অচল মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করেন।
এই ধরনের বাজারের সৃষ্টি মুঘল সাম্রাজ্য এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন আমল থেকেই। সেই সময় থেকেই কানা কড়ি বা পয়সার প্রচলন শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গুলিস্তানে অবস্থিত এই বাজারে এমন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিক্রি হয় নতুন ও ব্যবহারে অযোগ্য টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক অচল টাকার নোটগুলো বদলানোর ব্যবস্থা করলেও, এই বাজারে এসব টাকার বাজারমূল্য ঠিকই থাকে। শুধু দেশীয় মুদ্রা নয়, ৭৫টি দেশের মুদ্রারও লেনদেন হয়ে থাকে এখানে, যা বাজারটিকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে।
এভাবে, গুলিস্তানের এই বাজারটি দেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে একটি অদ্ভুত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে টাকা এবং মুদ্রার ব্যবসা চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর