
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতজুড়ে বর্জ্যের স্তুপ
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, যে সৈকতকে ঘিরে প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের সমাগম, কয়েক হাজার ব্যাবসার বিকাশ, আর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সেই সৈকতই আজ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফিশ ফ্রাইয়ের বর্জ্য, ডাবের খোসা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ছেঁড়া ফিশিং জাল সবকিছু মিলে সৈকতের সৌন্দর্য কার্যত পদদলিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী— প্রায় সব পয়েন্টেই একই চিত্র। বিশেষ করে সুগন্ধা পয়েন্টে ডিভাইন রিসোর্ট থেকে সি–গাল হোটেল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় নোংরা–দুর্গন্ধের ভয়াবহ অবস্থা। সেখানে ঝাউবাগানের ভেতর জমে থাকা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। সৈকতের পাশ দিয়ে গড়ে ওঠা হোটেলগুলো এসটিপি ছাড়া সরাসরি বর্জ্য পানি ফেলছে সৈকতের দিকে। পরিবেশগতভাবে অতি সংবেদনশীল এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই।
কলাতলী পয়েন্টে বর্ষার সময় ভেঙে পড়া প্রবেশপথ এখনো মেরামত হয়নি। দু’পাশে চটের বস্তা দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী পথ ভেঙে গেছে। ময়লা–পচনের কারণে সেই স্থানে ভনভন করছে মাছির ঝাঁক। জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র ও টুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশেও জমেছে ময়লার স্তূপ।
স্থানীয়রা বলছেন, এ তো যেন সৈকতের কোনো অভিভাবকই নেই। পর্যটকের ওপর নির্ভর করে হাজারো ব্যাবসা গড়ে উঠেছে, আর সেই পর্যটকই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরি জানিয়েছেন, সৈকতের ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্ব পৌরসভার নয়।
অপরদিকে সৈকত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। কমিটির বিচ কর্মী সুপারভাইজার মো. মাহবুব আলম বলেছেন, ৪০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত পরিষ্কার করি। কিন্তু অধিকাংশ ডাস্টবিন ভাঙা— সেজন্য সমস্যা হচ্ছে।
এই ডাস্টবিনগুলো ঠিক করা বা নতুন করে বসানোর দায়িত্ব কার— সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার জবাব নেই।
ঢাকার পর্যটক সুমাইয়া বলেন, সাগরের সৌন্দর্য দেখতে আসলেও এখানে হাঁটা যায় না। ফিশ ফ্রাইয়ের দোকানের বর্জ্য থেকে যে দুর্গন্ধ ওঠে, তাতে সৈকতে দাঁড়ানোই কষ্টকর।
অনেকে অভিযোগ করেন, নারিকেলের ছোবড়া, খাবারের প্যাকেট, সিগারেটের খোসা এমনভাবে ছড়িয়ে থাকে যে সৈকতকে যেন ময়লার ডাম্পিং স্টেশন মনে হয়।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু বলেন, প্রতি বছর পর্যটন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব তোলা হয়। সেই টাকা দিয়ে কী করা হয়? সৈকত পরিচ্ছন্নতার মতো মূল কাজেও তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শুধু প্রশাসন নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরসভাকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকেরা আসলেও আবর্জনার ওপর পা রেখে চলে যেতে বাধ্য হয়— এটা কক্সবাজারের জন্য লজ্জাজনক।
এ প্রসঙ্গে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। খুব দ্রুত পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে বসে স্থায়ী সমাধান নেওয়া হবে। পর্যটকদের স্বার্থেই সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ