
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। এ দ্বীপটি উপজেলা স্বীকৃতি পায় ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর। দ্বীপ উপজেলার উত্তর পূর্বে চকরিয়া, দক্ষিণ পূর্বে কক্সবাজার সদর, দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, উত্তর পশ্চিমে কুতুবদিয়া উপজেলা।
মহেশখালী উপজেলায় পৌরসভা সহ বড়ো মহেশখালী, কুতুবজোম, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, শাপলাপুর ও ছোটো মহেশখালী সহ ৩১ মৌজার ৩৮৮.৫০ বর্গ কিলোমিটারের পুরো উপজেলায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের একটি মাত্র হাসপাতাল 'মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স' তাও আবার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট। নেই কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল। ফলে বাধ্য হয়ে দৈনিক শতশত মানুষকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়।
হোয়ানক স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, বড় মহেশখালী স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, কালারমারছড়া স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, কুতুবজোম স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ধলঘাটা স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, মাতারবাড়ী স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, শাপলাপুর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র অল্প সংখ্যা রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও পূর্ণ চিকিৎসার একমাত্র ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহেশখালী। জনসংখ্যানুপাতে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে, প্রতিটি বেড়ে ২ জন করে সেবা নিচ্ছেন। অনেকেই মেঝেতে কাঁথা ছাদর বিছানা নিচ্ছেন, চিকিৎসা সেবা। অধিকাংশই সময় লক্ষ্য করা যাই, গর্ভবতী ও ডেলিভারি রোগীদের করুণ অবস্থায় পড়তে হয়। রোগীদের বেডের সং কোলন না হয়ে ফ্লোরে পর্যন্ত ঠাঁই থাকে না। রোগীর আত্মীয় স্বজন রোদ বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে মহেশখালী থেকে সাগরে পথে পাড়িয়ে দিয়ে রোগী নিয়ে চলে যান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকায় বেশী বিপাকে পড়তে হয় রোগীদের। ইতোমধ্যে শীতের দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ।
বৃহস্পতিবার (১২/১১/২০২৫ ইং) রাত ৮.০০ ঘটিকায় হাসপাতালে সরজমিনে দেখা মিলে, হাসপাতালে শিশু নিয়ে অভিভাবকদের ভিড়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছে, শীতের প্রকোপ গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হওয়ায় মহেশখালীর দূর দূর থেকে আসা চিকিৎসা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনরা মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উন্নীত করার জোর দাবি জানান।
এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুল হক জানান, আমি হাসপাতাল প্রধান হিসাবে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনদুর্ভোগ কমাতে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করণে বহুবার আবেদন করেছি। সাবেক এমপি আশেক উল্লাহর রফিক মহোদয়ের মাধ্যমে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহেদ মালিককে মহেশখালী হাসপাতালের সম্পূর্ণ তথ্য পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানো হয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। আমাদের পাশের উপজেলা চকরিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও আমরা এখনো আমাদের হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট করাতে পারিনি। সরকার পতন পরবর্তী ৫ই আগস্টের পর সলিমুল্লাহ খান সাহেবের মাধ্যমে তদবির করা হয়েছে। তবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ১০০ বেড়ে তালিকায় লিষ্টভুক্ত হলেও কবে না নাগাদ বাস্তবায়ন হবে অজানা।
এখানে বলে রাখা দরকার, হাসপাতাল এরিয়ায় ঢুকে গোলচত্তরের পাশে যে ৪ তলা ফাউন্ডেশনের একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেটি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে এইচজিএসপি প্রজেক্টের মাধ্যমে নির্মাণ করে মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে কিছু সেবা বাড়াতে পেরেছি, তবে ভবনটিতে ২য় ও ৩য় তলা নির্মাণ করা গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের আরো বেশী চিকিৎসাসেবা বাড়াতে পারবো। তা ছাড়া হাসপাতালের জনবল সংকটও আরো একটি কারণ। আমি এই হাসপাতালে ডাক্তার ও একজন মহেশখালীয়ান হিসাবে আমারও দাবি আমাদের হাসপাতালটি ১০০ শয্যা করা হোক।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ