প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ পিএম

সংগৃহীত ছবি
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির কাছের পরিচিত একটি হাঁটার পথে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, গ্রিজলি ভাল্লুকের হামলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৪৮ বছর বয়সী আর্ট থেরাপিস্ট জেনিফার ব্ল্যাককারাস ও তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেলা কুলা এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ‘স্কা ওয়েস্ট ট্রেইল’-এ গত শনিবার হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তারা। জেনিফার চার সন্তানের জননী। নির্ধারিত একটি অনলাইন সভায় তিনি যোগ না দেওয়ায় তার ভাই ম্যাট ব্ল্যাককারাসের সন্দেহ হয়। এরপর তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার জেনিফারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয় তার মেয়ে সেলাহর মরদেহ।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের কর্মকর্তা জেফ টায়ার জানান, ঘটনাস্থলের আলামত থেকে গ্রিজলি ভাল্লুকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে হামলায় একাধিক ভাল্লুক জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ভাল্লুকটিকে শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে সেটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।
মা-মেয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেনিফারের আরেক ভাই জশ জানান, মা ও মেয়ে সব সময় বন্ধুর মতো একসঙ্গে থাকতেন। শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে তারা পছন্দ করতেন। পাহাড়ি ওই পথটিও তাদের বেশ পরিচিত ছিল।
জীবনের নতুন অধ্যায় ও পেশাগত ক্যারিয়ার শুরু করতে সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল দূরের বেলা কুলা এলাকায় চলে এসেছিলেন জেনিফার। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। জেনিফারের বেঁচে থাকা অপর তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিবারের অপ্রত্যাশিত ব্যয় মেটাতে বন্ধুদের উদ্যোগে ‘গোফান্ডমি’তে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় ভাল্লুকের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি শাবকসহ একটি ভাল্লুকের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।