প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৪ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি বিক্রি, উত্তরাধিকার দাবি ও পাসপোর্ট পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধরনের অপরাধে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা, সাময়িক বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘এই অভিযোগে আমাদের অনেক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে আমরা ফৌজদারি মামলা করেছি। তাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থাও করেছি। সুতরাং আমরা ছাড় দিচ্ছি না।’
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এনআইডি সংশোধনের আবেদনে পিতা-সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র তিন বছর কিংবা মা-মেয়ের বয়সের ব্যবধান দুই-তিন বছর দেখানোর মতো অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। কারও একাধিক জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদ থাকায় তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সংশোধনের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, পরিবারের সদস্যদের এনআইডিসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হচ্ছে। শুধু হলফনামার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নেই। জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. ছত্তার ও পঞ্চগড় সদরের অফিস সহকারী কামনা রানী সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন বাতিল হয়েছে। তবে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বাতিলের সংখ্যা মানেই সমসংখ্যক আবেদনকারী নন। একজন একাধিকবার আবেদন করতে পারেন, আবার একই আবেদনের কিছু তথ্য সংশোধন হলেও অন্য অংশ বাতিল হতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে পুনরায় আবেদনের সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীদের সেবা সহজ করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য ও নথি পাওয়া গেলে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি