প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও খাদ্যশস্য পরিবহনে বাধার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে দাঁড়ানোর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। এদিকে খাদ্যপণ্যের দাম এ বছর ১০ শতাংশের বেশি এবং ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। এতে দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিতে ব্যবহৃত সারের দাম এ বছর ১৪ শতাংশ এবং ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, জ্বালানির বাড়তি খরচ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন পণ্যমূল্য বাড়াচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বাধা এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে খাদ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়েও বাড়তে পারে। এতে চরম দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে ইতিমধ্যে ৮৭০ কোটি ডলারের স্বল্প সুদের ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি