বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● জামালপুরের জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত      ● ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে ভারতে ২ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৪ গ্রাম      ● জাপানি মডেলে ঢাকার ২১ স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু      ● সাইবার হামলার শঙ্কায় সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার      ● মাদ্রাসার সভাপতি-পরিচালক আনছারুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, শুনানিতে অনুপস্থিতির দাবি      ● ঢাকার সব ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের      ● উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ● সচেতন সমাজ গড়তে সাটুরিয়ায় শিক্ষার্থীদের অঙ্গীকার      ● বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চায় জেবিআইসি      ● বিদ্যুৎ খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: রিজভী      ● মেঘনায় চুরির অভিযোগে চার যুবক গ্রেপ্তার      ● পাবনায় শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম, লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ      
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে ভারতে ২ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৪ গ্রাম
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২৬ ২:৪৫ PM

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে ভারতে ২ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৪ গ্রাম


ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত রাজ্যটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।


বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লী জেলার ইলামানচিলি শহরে বাড়ির পাশের জমা পানিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম জেলায় কৃষিজমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।


বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ-ইয়ানাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড়টি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এর স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া। এতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি ট্রেন ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় আগেই বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৩৯টি দল এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) ৮০টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। এনডিআরএফের মহাপরিদর্শক নরেন্দ্র সিং বুন্দেলা জানিয়েছেন, বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।


এনডিআরএফের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশে ৭১৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩০টি বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জেলা কালেক্টরসহ ৩২ হাজার কর্মীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন।


এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে এনডিআরএফের সহায়তা বাড়াতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় দ্রুত কেন্দ্রীয় দল পাঠানোরও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সকালে আনাকাপল্লির পেয়াকারাওপেটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভি অনিথা।


অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ওড়িশা রাজ্য সরকার ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। বুধবারও রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি ছিল বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি। তাঁর আশঙ্কা, দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে মালকানগিরিতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেশি।


মন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মী ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রকাশিত বুলেটিনে জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে ‘অতি তীব্র’ থেকে ‘তীব্র’ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ইয়ানামের দক্ষিণ-পশ্চিমে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। আইএমডি জানায়, উপকূল অতিক্রমের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করেছে।


এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম থাকলেও উপকূলীয় এলাকায় পানির স্তর বৃদ্ধি ও উঁচু ঢেউ দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতার বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টিপাত হয়। তবে বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক ছিল।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, দমকা হাওয়া ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং সেখানে অবতরণকারী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার এক সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট বাতিল করেছে অথবা কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে।



স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ







Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close