প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার চাঁচকৈড় বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স প্রগতি ভাণ্ডারের সামনে অন্তত দুই শতাধিক কৃষককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কৃষকদের অভিযোগ, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার না পেয়ে অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। রবি ও বোরো মৌসুমে সরিষা, রসুন, পেঁয়াজ, ভুট্টা ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ শুরু হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
পিপলা গ্রামের কৃষাণি মুক্তিয়ারা বেগম জানান, সাত বিঘা জমিতে সরিষা, রসুন ও ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েও সার না পাওয়ায় বীজ বপন করতে পারছেন না। একই গ্রামের কৃষক মোহসিন ও শ্রীপুর গ্রামের কাউছারও সকালে লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়ার কথা জানান। তাঁদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে ইউরিয়া ছাড়া অন্য সার নেই। সময়মতো সার না পেলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সার ডিলার মেসার্স প্রগতি ভাণ্ডারের ম্যানেজার বাচ্চু জানান, চলতি মাসে বরাদ্দ পাওয়া ২২৮ বস্তা টিএসপি, ১৭০ বস্তা ডিএপি ও ২৮০ বস্তা পটাশ সার কৃষকদের চাহিদার কারণে শেষ হয়ে গেছে। আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে আবার সার পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, চলতি অক্টোবরে ২০ জন ডিলারের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ডিএপি, ১ হাজার ২২০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৫৫০ মেট্রিক টন টিএসপি ও ৪৭৫ মেট্রিক টন এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। ডিলারদের চাহিদাপত্র দিতে বলা হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকেরা সার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নাটোর বাফার গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে বা কৃষকদের হয়রানি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি