প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ AM

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়াও পরিশোধ করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করেছে। এই ঋণ নেওয়া হলে চলতি অক্টোবরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।
সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ৫ অক্টোবরের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ অক্টোবর ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর মতে, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ব্যয় ও ঋণ বাড়তে থাকলে সরকারের ঋণের বোঝা বাড়বে এবং বেসরকারি খাত আরও সংকুচিত হতে পারে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি