প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ AM

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন ও সেন্ট মার্টিনের মতো আকর্ষণীয় গন্তব্য থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যটনশিল্পে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি দেশটি। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সহজ ভিসা, উন্নত অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে থাইল্যান্ড।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪ এবং ২০২৩ সালে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫১ জন। এদিকে, ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছ থেকে দেশটির আয় হয়েছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের আয় ছিল ৪৮৮ মিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের বড় অংশ ব্যবসা, প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য প্রয়োজনে এলেও প্রকৃত অবকাশযাপনকারী পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।
পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অবকাঠামোর ঘাটতি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা, যাতায়াতে ভোগান্তি, মানসম্মত আবাসন ও সেবার অভাব এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণে বাধা তৈরি করছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়া, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, জটিল ভিসা প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের দুর্বলতাও রয়েছে। তাঁদের মতে, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত গাইড, মানসম্মত সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি