মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: মাহদী আমিন      ● বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী      ● জাতীয় স্যানিটেশন মাস উদযাপন      ● ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা      ● ‘ভোটের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে বিএনপি’      ● ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে আপত্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      ● ‘শেয়ারিং সমৃদ্ধি বিগ-বি’ উদ্যোগে একমত বাংলাদেশ-জাপান      ● টেকসই বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান      ● স্বল্প সুদের আমানত সংগ্রহে জোর দিলেন জনতা ব্যাংকের এমডি      ● মাস্টারকার্ডের লাইসেন্স পেল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক      ● মাধবপুরে পুলিশের ওপর হামলা      ● দেশ বিরোধী চক্রান্ত রুখে দিতে জাতীয়তাবাদী শক্তি রাজ পথেই থাকবে      
৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: মাহদী আমিন
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম

তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের সচ্ছলতা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর কাছে সরকারি এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ন্যাশনাল সামিট অন ইয়াং উইমেন’স এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং ‘আর্ন’ প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান।

নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই তৃণমূল নারীদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য স্তরের নারীদেরও মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে। তরুণ ও নারীদের মেধার যথাযথ বিকাশে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) এবং নারীদের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশই উদ্যমী তরুণ-তরুণী। আবার মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি নারী। তারুণ্যে উদ্দীপ্ত এই নারীদের উপস্থিতির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে পুরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন মানুষ হলেন তাঁর মা, তাঁর স্ত্রী ও তাঁর কন্যা। নারীদের প্রতি তাঁর সেই গভীর অনুভূতি ও শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে নারীদের সার্বিক উন্নয়নে পৃথক নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন এবং অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের মূল ক্ষেত্র গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তীতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষে নতুন বই চালু করা হচ্ছে। এ বছর প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে ১১ লাখ ছাত্র ও সমানসংখ্যক ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। প্রাথমিক স্তরে উপস্থিতির হার বাড়াতে মিড ডে মিল কর্মসূচি এবং বিনামূল্যে স্কুল পোশাক ও জুতা বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন সুবিধাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রচলিত সার্টিফিকেটসর্বস্ব ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী তিন, ছয়, নয় মাস কিংবা এক বছর মেয়াদি বিভিন্ন শর্ট কোর্স ও মাইক্রোক্রেডিটের আধুনিক কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাপানি, আরবি, ফরাসি, ইতালীয় ও কোরীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের মডেল অনুসরণ করে নার্সিং, কেয়ারগিভিং ও বিশেষায়িত খাতে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ চাকরির সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে জামানতবিহীন স্বল্প সুদের ঋণ এবং উদ্ভাবনী ধারণার জন্য সিড ফান্ডিং ও সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়নই রাষ্ট্রের শক্তির মূল ভিত্তি। সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফসহ সব উন্নয়ন অংশীদারকে নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।






স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close