প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৩ পিএম

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সংসারের খরচ সামলাতে বাজারে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন ক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজি এখন কেজি বা ডজনের বদলে ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ টাকার হিসাবে কিনছেন অনেকে। কেউ নিচ্ছেন এক পোয়া ডাল, এক হালি ডিম কিংবা ২০-৩০ টাকার কাঁচামরিচ। আয়-ব্যয়ের অসংগতিতে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোরও নিত্যদিনের বাজার সীমিত হয়ে পড়েছে।
ক্রেতাদের এই খুচরা কেনাকাটায় বিক্রেতারাও পড়েছেন চাপে। মগবাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, আগে অল্প কয়েকজন ক্রেতার কাছে এক-দুই কেজি করে ডাল বিক্রি করলেই দিনের বড় অংশের বিক্রি হয়ে যেত। এখন একই পরিমাণ পণ্য বিক্রি করতে অনেক বেশি ক্রেতাকে সামলাতে হচ্ছে। ছোট পরিমাণে পণ্য বিক্রি করায় প্যাকেট ও পলিথিনের ব্যবহার এবং কাজের চাপও বেড়েছে। অন্যদিকে, কম পরিমাণে কেনার কারণে ক্রেতাদের প্রতি কেজি পণ্যে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। যেমন, এক কেজি মসুর ডালের দাম ১৫০ টাকা হলেও এক পোয়া কিনতে ৪০-৪৫ টাকা লাগছে, ফলে কেজিপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা।
বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। টিসিবির পণ্য ও খোলা বাজারে বিক্রির কার্যক্রম থাকলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও রেশনিংয়ের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। এদিকে মাছ-মাংস, ডিম ও পর্যাপ্ত ডাল কিনতে না পারায় পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের পুষ্টি ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ছে। পুষ্টিবিদ নিশাত লামিয়া সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাব শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, মেধার বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি