প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ AM

ইঞ্জিন সংকটে বাংলাদেশ রেলওয়ের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা কমে এসেছে। সড়ক ও নৌপথের তুলনায় কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। গত পাঁচ বছরে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এতে চট্টগ্রাম বন্দর, জ্বালানি সরবরাহ ও বিভিন্ন শিল্পের পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৭০টি পণ্যবাহী ট্রেন চললেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চলেছে ১ হাজার ৪৬৭টি। ইঞ্জিনের অভাবে জ্বালানিবাহী ওয়াগন কখনো কখনো দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ইয়ার্ডে পড়ে থাকছে। ১ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৫৩ দিনে ইঞ্জিন সংকটে ৪৯টি পণ্যবাহী ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত রেলওয়ের উন্নয়নে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও কেনা হয়েছে মাত্র ৪০টি ইঞ্জিন। বর্তমানে বহরে থাকা ২৯৭টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১৫০টির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলে বন্দরে কনটেইনার জট তৈরি হয়। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, রেলওয়ের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমত এবং ভোক্তারাও সুফল পেতেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, পণ্যবাহী ট্রেন সচল রাখতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সংকটের কারণে চার থেকে পাঁচটির বেশি পাওয়া যায় না। সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ওয়াগন ও লোকোমোটিভ সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি