প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ পিএম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে উত্তর সাগরের জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্রের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। বুধবার দেওয়া এ অনুমোদনের ফলে দীর্ঘদিন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে থাকা প্রকল্পটিতে শিগগিরই উৎপাদন শুরু হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৬ শতাংশ বাড়বে। গ্যাসক্ষেত্রটির উৎপাদনকাল হতে পারে সর্বোচ্চ ১১ বছর। সরকারের দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে।
তবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গ্রিন পার্টির নেতা সিদ্ধান্তটিকে ‘জলবায়ুর জন্য ধ্বংসাত্মক’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ইউনাইট ইউনিয়ন একে স্বাগত জানিয়েছে।
এদিকে, তেল-গ্যাস থেকে পাওয়া রাজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের কাজে বিনিয়োগ করতে ২০০ কোটি পাউন্ডের এনার্জি ওয়েলথ ফান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, বিদ্যমান জ্বালানি সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের পাশাপাশি মানুষের ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান রক্ষা ও জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। জ্যাকডো গ্যাসক্ষেত্রটি শেল ও নরওয়ের ইকুইনরের যৌথ উদ্যোগ আদুরা পরিচালনা করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রোজব্যাংক তেলক্ষেত্রের অনুমোদন এখনো দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি