প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পিএম

টিকাদানের ঘাটতি, দুর্বল তথ্যব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত জনসচেতনতার অভাবে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ২২ হাজার রোগীর হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং মারা গেছেন ১ হাজার ১৪৭ জন। মৃতদের ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিশ্বজুড়ে টিকাদান কার্যক্রমের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদানের হার অন্তত ৯৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে ২০২৫ সালে হাম টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৯০ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজের হার ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। আগের বছর এ হার ছিল যথাক্রমে ৯৬ ও ৯৩ শতাংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাখো শিশুর তথ্য তালিকায় না থাকা, স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা, দুর্বল প্রস্তুতি এবং দুর্গম এলাকার পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় টিকাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে সিলেটের প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা না পাওয়ায় শিশু মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকের পরিবার জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের এলাকায় পৌঁছেছেন শিশুর মৃত্যুর পর। জরুরি কর্মসূচিতে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কিছুটা কমলেও, বিপুলসংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকার নতুন টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে, যার লক্ষ্য আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছানো এবং নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই ভবিষ্যতে এমন প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর প্রধান উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি