প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে চায় জাপান। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একটি বিশেষ শিল্প প্রক্রিয়াকরণ শৃঙ্খল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন তৈরির পরিকল্পনা করছে টোকিও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু টোকিওভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরে ২০৩১ সাল পর্যন্ত মাতারবাড়ী শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও বাণিজ্যিক হাবসহ একাধিক প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাওয়া হতে পারে। জাপানের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক প্রতিনিধি বলেছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্প হাবে পরিণত করতে এবং যোগাযোগ ও ট্রানজিট ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে পারে। জাপান এর আগে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একই ধরনের উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে।
মাতারবাড়ী প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় পণ্যবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। জাপানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের পাশাপাশি ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের সঙ্গে সড়ক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানি কর্মকর্তারা আশাবাদী। তাঁদের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ বাড়লে মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্বও বাড়বে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি