শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব দিতে হবে নৈতিক শিক্ষায়: ড. এম এ কাইয়ুম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যচর্চা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘আমি যা বলব, তা-ই হবে’—এমন মনোভাব স্বৈরাচারের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে এনে নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি।
গতকাল রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ড. এম এ কাইয়ুম।
তিনি বলেন, সংগীত ও নৃত্য বাংলাদেশের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষক রাখার প্রস্তাব করেন তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তির পূজা করা যাবে না। ‘আমি যা বলব, তা-ই হবে’—এমন আচরণ স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা গ্রহণ করা। সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা অর্জন করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও রাস্তায় নেমে মব সৃষ্টি করা অত্যন্ত খারাপ সংস্কৃতি। তিনি নিজেও কোনো কথা বললে বা নির্দেশনা দিলেও তা অন্যায় হলে গ্রহণ না করার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি আব্দুল হাই-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মাসিক ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকার মাটি ও গণমানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করার সুযোগ তাঁকে দিতে হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সংগীত ও নৃত্য উপভোগ করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন শাম্মী আক্তার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন করা উচিত। দেশের শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেলে কতটা ভালো করতে পারে, আজকের অনুষ্ঠান তার প্রমাণ। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ছেলেমেয়েরা যেন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করেছে। এ জন্য মাসিক সম্মানী ভাতারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশের নারীদের সাহস ও সক্ষমতার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক সাহসী। তাঁরা চাইলে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকল ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। দেশের নারীরা বিভিন্ন সময়ে তা প্রমাণ করেছেন। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ