
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় মো. হোসেন নামে এক ট্রাকচালক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন।
এদিন শুনানির জন্য কারাগারে থাকা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আদালতের লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় এজলাসে নেওয়া হয়েছে বলে বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন পলক।
পলক বলেন, ‘এটা কী ধরনের সিস্টেম। লিফট চালু দেখলাম। তারপরেও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
জবাবে বিচারক বলেন, ‘এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’
পরে পলক বলেন, ‘এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।’
এ সময় পলক সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আনিসুর রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘পিপির মনে রাখা দরকার, তাঁর ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।’
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘এই মামলায় সাজ্জাদ হোসেন এবং নাইমুল হাসান রাসেল নামে দুই আসামির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁদের আদালতে উপস্থিত করতে পারেনি। এ জন্য আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করেন।’
শুনানি শেষে পলককে আদালত থেকে নামানোর সময়ও সিঁড়ি দিয়ে হাঁটিয়ে নামানো হয়। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’
এ সময় পলকের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, তরিকুল ইসলামসহ অনেকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকি ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক। তবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি