প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ AM

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশের নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরেছেন জেলেরা। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার পর নতুন করে ২২ দিনের অবরোধে তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও জীবিকা নির্বাহ ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন জেলেরা।
জেলেদের অভিযোগ, এখনো সব ইলিশের পেটে পুরোপুরি ডিম আসেনি। এর পাশাপাশি সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
জেলে মাঝি মো. সোলায়মান বলেন, ‘আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকের ঋণে জর্জরিত। এর সঙ্গে রয়েছে দাদনের বোঝাও। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ও ব্যবসায়ীরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।’
জেলে আ. রহিম বলেন, ‘সরকারি আইন মানলেও যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। অনেক সময় সেই প্রণোদনাও সঠিক সময়ে হাতে পৌঁছায় না। তাই প্রকৃত জেলেদের জন্য সময়মতো প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’
মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর ধরে সাগরে আশানুরূপ মাছ মিলছে না। এই অবরোধের সুযোগ নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা আমাদের জলসীমায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। তাই বঙ্গোপসাগরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি বাড়ানো উচিত।’
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির এই পদক্ষেপের সুফল শেষ পর্যন্ত মৎস্যজীবীরাই পাবেন। ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত বা বাজারজাতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব অপরাধ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি