
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে কাজের সুযোগ চাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সুবিধা পরবর্তী সময়ে প্রতিবার নবায়নের জন্য ৩০ হাজার ডলার ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) নতুন এই ফি কাঠামোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার ওপিটিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী প্রতিবার নবায়নের জন্য ৩০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং কম মজুরির বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান ওপিটি ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত এক বছর কাজের সুযোগ পান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কাজের অনুমতি পেতে পারেন।
তবে স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অভিযোগ করেছে, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও শিক্ষার্থী ভুয়া কর্মস্থল দেখানো এবং অর্থের বিনিময়ে থাকার ব্যবস্থা করার মতো অনিয়মের মাধ্যমে ওপিটি ব্যবস্থার নিয়ম লঙ্ঘন করছে।
পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল ভারত।
এদিকে কমন অ্যাপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অর্থনীতিতে ৪১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এ অবদান ৩৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নাফসা ও জেবি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের ১১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে কমে এবার ১০ লাখ ৫৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে এ বিষয়ে মতামত জানানোর জন্য সাধারণ মানুষকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। ফলে প্রস্তাবিত নতুন ফি কাঠামো বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ