
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুই তরুণ জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়ার। নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তও হয়েছিলেন তাঁরা। তবে নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর আটকে যায় তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও কেন চাকরি হলো না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন তাঁরা।
দুই প্রার্থীর দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। এরপরও কী কারণে তাঁদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতঘরহাটি গ্রামের রুবেল মিয়ার (৩১) বাবা পেশায় কৃষক। কৃষিকাজ করে বাবা চার ছেলেমেয়েকে বড় করেছেন। রুবেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন।
রুবেলের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতেও নেই। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় সরকারি চাকরিকে ভবিষ্যতের অবলম্বন হিসেবে দেখেছিলেন রুবেল। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকেও চাকরির খবর জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিয়োগ না হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তিনি।
রুবেল বলেন, ‘কেন আমার নিয়োগ আটকে আছে, তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
রুবেলের মতো নবীনগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মো. জুবায়েরুল ইসলামও (৩১) প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর দাবি, কাগজপত্রে কোনো জটিলতা বা মামলা না থাকার পরও যাচাইয়ে ত্রুটির কথা বলে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে কী ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা জানানো হয়নি।
জুবায়েরুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে তিনি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপর নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও কোনো জটিলতা নেই।
৩১ বছর ৬ মাস বয়সী জুবায়েরুলের বড় দুই ভাই শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ থাকলেও পরিবারের সঙ্গে একই এলাকায় থাকার ইচ্ছায় এর আগে দুটি সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানান তিনি।
জুবায়েরুল বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অপবাদ দিতে চাই না। শুধু জানতে চাই, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আমাকে কেন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হলো। আমার কোনো ভুল বা অযোগ্যতা থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’
দুই প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বলেন, ‘এবারের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভেরিফিকেশনে দুজন বাদ পড়েছেন। বিভিন্ন কাগজপত্রের জটিলতা বা মামলা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কেউ বাদ পড়তে পারেন। নিয়োগের বিষয়ে মহাপরিচালক স্যারের কাছ থেকে নির্দেশনা আসে।’
তবে জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়ার দাবি, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় এখন তাঁদের মূল প্রশ্ন—কোথায় তাঁদের ঘাটতি ছিল এবং কেন সেই কারণটি তাঁদের জানানো হচ্ছে না?
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি