
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ আউরা-জয়খালী সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। একসময় পাকা থাকলেও বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ অংশে পিচ ও ইটের কোনো চিহ্ন নেই। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের কোথাও পাকা রাস্তার চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। দক্ষিণ আউরা ব্রিজ পার হয়ে কিছুটা সামনে গেলেই দেখা যায় বড় বড় গর্ত। কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে, আবার কোথাও পিচ ও ইট উঠে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আউরা গ্রামের নান্টু জমাদ্দারের বাড়ি থেকে পঞ্চায়েত বাড়ি হয়ে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। এ অংশের অধিকাংশ কালভার্টও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মরহুম এনায়েত হোসেন খসরু পঞ্চায়েতের বাড়ির উত্তর পাশের এবং আবুল কালাম হাওলাদারের বাড়ির পূর্ব পাশের দুটি কালভার্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক ছাড়া তাঁদের আর কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে সড়কটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পণ্য পরিবহনের গাড়ি চলতে না পারায় কাঁধে বা হাতে করে মালামাল বহন করতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের।
দক্ষিণ আউরা গ্রামের ইজিবাইকচালক কবির হোসেন বলেন, ‘রাস্তার যে অবস্থা, অটো নিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া যায় না। বাইপাস বা বটতলা বাজারে গাড়ি রেখে চার্জ দিতে হয়।’
জয়খালী গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জায়েদুল আলম খান বলেন, সড়ক দিয়ে চলাচলের উপায় না থাকায় অনেক সময় পেছনের পথ দিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং সময়মতো সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নুরুজ্জামান সিকদার জানান, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দক্ষিণ আউরা থেকে জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণ করেছিল। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেও আর কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কটির ৪০০ মিটার অংশের দরপত্র ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশ প্রশস্তকরণ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন শেষে দরপত্র আহ্বান করা হলে দ্রুতই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি