প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ AM

২০৩৯ সালে বিরল এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারে মুসলিম বিশ্ব। ওই বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের একই বছরের মধ্যে তিনটি ঈদ এবং দুটি হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।
হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের চেয়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। ফলে ইসলামি মাস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে কিছুটা আগে চলে আসে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এই স্থানান্তরের কারণে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে কোনো কোনো ইসলামি মাস বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান একাধিকবার পড়তে পারে।
ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি ১০ জিলহজ ১৪৬০ হিজরি হতে পারে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেদিন ঈদুল আজহা উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর হিজরি বর্ষের আরেকটি পূর্ণচক্র শেষ হওয়ার কারণে একই গ্রেগরিয়ান বছরের শেষ দিকে আবারও হজের সময় আসতে পারে। সম্ভাব্য হিসাবে ২০৩৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর ১০ জিলহজ ১৪৬১ হিজরি হতে পারে। ফলে ওই দিন দ্বিতীয়বার ঈদুল আজহা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে দুটি হজ ও দুটি ঈদুল আজহা হতে পারে। দুই হজের মধ্যবর্তী সময়ে পৃথকভাবে আরাফার দিনও পালিত হবে।
এ দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে পড়তে পারে ঈদুল ফিতর। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। ফলে ওই বছরে দুটি ঈদুল আজহা ও একটি ঈদুল ফিতর—মোট তিনটি ঈদ পালনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
চান্দ্র ক্যালেন্ডারের এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু হজ ও ঈদের ক্ষেত্রেই নয়, রমজানের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে দুইবার রমজান মাস পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি রমজান শুরু হতে পারে জানুয়ারিতে এবং পরবর্তী রমজান একই বছরের ডিসেম্বরের দিকে শুরু হতে পারে। এর আগে ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পালিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি হিজরি বর্ষ চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল এবং সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের হয়। অন্যদিকে গ্রেগরিয়ান বর্ষ সৌরভিত্তিক এবং ৩৬৫ বা অধিবর্ষে ৩৬৬ দিনের। দুই ক্যালেন্ডারের এই সময়ের পার্থক্যের কারণেই হিজরি মাসগুলো প্রতিবছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। দীর্ঘ সময় পর এর ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে একই ধর্মীয় মাস বা উৎসব একাধিকবার পড়ার মতো বিরল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি