
ইরানকে দায়ী করা এবং দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাটি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানো এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে কথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর এই ঘটনাকে ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানোর পরিবেশ তৈরি করা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পরে অন্য পাইলট ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জরুরি অবতরণের পর যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেলআবিবে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, কো-পাইলট পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য ও পেছনে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তখনও নিশ্চিত হয়নি।
তদন্তে এখনো স্পষ্ট নয় ঘটনার উদ্দেশ্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তের লক্ষ্য হিসেবে ঘটনার কারণ, পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা পূর্বপরিকল্পনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও বলেছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো অজানা এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহু ঘটনার দুই দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপন সফর করেছিলেন। এরপরই বিমানটির ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার দাবি তুলেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে পুরোনো ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের সঙ্গে তুলনা করেছে।
ঘটনাটি ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ঘটায় দেশটির রাজনীতিতেও এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটির ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি