
বগুড়ার ধুনটে মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌরসভার ধুনট বাজারের ইসামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্সের প্রথম তলায় মো. মাসুদ রানার ‘মাসুদ টেলিকম’ নামে একটি মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মার্কেটের নৈশপ্রহরী সুলতান হোসেন দোকানগুলোর সাটার ও তালা পরীক্ষা করে দায়িত্ব শেষে বাড়িতে চলে যান।
সকাল সোয়া ৮টার দিকে ফেলে যাওয়া বাসার চাবি নিতে আবার মার্কেটে এসে তিনি ৯ থেকে ১০ জনকে পিঠে কলেজ ব্যাগ নিয়ে মার্কেট থেকে বের হতে দেখেন। এতে সন্দেহ হলে তিনি মার্কেটের ভেতরে গিয়ে ‘মাসুদ টেলিকম’ দোকানের সাটারের তালা ভাঙা ও সাটার খোলা দেখতে পান। পরে বিষয়টি দোকান মালিককে জানান।
খবর পেয়ে দোকানে এসে মাসুদ রানা দেখতে পান, দোকানের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে এবং গ্যালারিতে সাজানো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নেই। এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ৩০ সেপ্টেম্বর ধুনট থানায় মামলা নম্বর ২৬, দণ্ডবিধির ৩৮০/৪৬১ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তভার এসআই মো. ওসমান গনীর ওপর অর্পণ করা হয়। এরপর ধুনট থানা পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর দলের গতিবিধি শনাক্ত করে। তাদের অনুসরণ করে ধুনট সিএনজি স্ট্যান্ড ও শেরপুরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
পরে পুলিশের পৃথক দুটি দল বাসটির গতিপথ অনুসরণ করে। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জের পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে বাসটি তল্লাশির জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ১০টার দিকে যমুনা টোলপ্লাজায় শ্যামলী পরিবহনের বাসটি পৌঁছালে যমুনা পশ্চিম সেতু থানা পুলিশের সহায়তায় বাসটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় চুরি যাওয়া ৯৪টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয় এবং আন্তঃজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানার সৈয়দপাড়ার আল আমিন (৩০), বাকুলিয়া থানার সিএমপি বাকুলিয়ার আক্কাস আলী (৩৫), নরসিংদীর রায়পুরা থানার চর মদিনা নগরের ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার চব্বাস মোল্লাবাড়ীর ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা থানার নওয়াবপুরের রবিউল ইসলাম (৩৩), কুমিল্লার মুরাদপুর থানার কামাল্লার আলা উদ্দিন (২৫), চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়ার ইসরাফিল রহমান (২৭) এবং চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার ইসমাইল ফয়েজো রোডের হৃদয় (৩৪)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকের শনাক্তকরণ শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর করা হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি